Status

সময়

আমি সময়ের পথ ধরে হেঁটেছি, হেঁটেছি কত কাল মহাকাল,
পেরিয়েছি দুঃখ নামের কত নদী, সেতু আর আলের পর আল।

সময়ের সাথে গেয়ে, তারি সাথে নাউ বেয়ে, কত রোদ্র করেছি স্নান,
কালের ভাঁজে ভাঁজে, বয়সের খাঁজে খাঁজে জমায়েছি কত স্মৃতি অম্লান।

তবু গোধুলির বেলা শেষে যেতে হবে হারিয়ে, এই সময়েরি পথ বেয়ে,
শত পথিকের দিশারী হয়ে মহাকালের সাক্ষী হয়ে, তবু এই পথ যাবে রয়ে।

# ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৬, বিকাল ৪ঃ৩০

Status

আইইউবিএটি (IUBAT) বনাম ধর্মীয় পোশাক

IUBAT-এর সাথে যুক্ত অনেককেই দেখি অনেক রকমের পোষ্ট দিতে, ধর্মের কোন পোশাক নেই… পোশাক পড়ে ধার্মিক হওয়া যায়না… পাঞ্জাবী-বোরকা ভিনদেশী কালচার… পোশাক কালচারের ধর্ম মনের… বোরকা ছাড়া কি পর্দা হয়না… ইত্যাদি ইত্যাদি আরও অনেক কথা।
আরে ভাই, শুধু বোরকা অথবা লম্বা কাপড় কেন, লোহার তৈরি কোন মেটালিক জিনিস দিয়ে যদি কেউ মাথার চুল ঢাকে, সেটাও পর্দা।
যুক্তির খাতিরে যুক্তি দিলেই হয়না। কারন যুক্তি সব সময় অধিকারের কথা বলেনা, অনেক সময় যুক্তি দিয়ে মানুষের অধিকার হরন করা হয়।

আমরা বৃত্তের ভিতরে থেকে শুধু বৃত্তের জ্যা, ব্যাস, ব্যাসার্ধ ইত্যাদি নিয়ে চিন্তা না করে যদি বৃত্তের বাইরে এসে বৃত্ত কিসের উপর অবস্থিত এবং বৃত্তটার প্রয়োজনীয়তা কি এসব নিয়েও চিন্তা করি তাহলেই কেবল বৃত্তের সমস্যা সঠিক ভাবে সমাধান করতে পারব। IUBAT কর্তৃপক্ষ পাঞ্জাবী-বোরকাকে ভিনদেশী কালচার বলে আসল সমস্যার কথা বারবার এড়িয়ে যায় তাই এই কথা বললাম, কারন কালচার হচ্ছে বৃত্তের ভিরতের অংশ।
ইডওয়ার্ড বার্নেট টেলর এর মতে কালচার হচ্ছে “That complex whole which includes knowledge, belief, art, morals, law, custom and any other capabilities and habits acquired by man as a member of society.”
এখন Knowledge, Belief, Art, Morals, Law ইত্যাদি যদি একটা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উপেক্ষীত হয় তাহলে সে প্রতিষ্ঠানকে Ignorant তৈরির কারখানা বলা যেতে পারে।
অনেকেই বলবে – IUBAT তে কালচার কে উপেক্ষা করা হয়না।
হুম, সেটা ঠিক। উপেক্ষা করলে কি আর রাতে জমে উঠা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের রঙ্গিন আলোর ছন্দে কোমর দুলিয়ে কোন যুবতী ‘শিলা কি যাওয়ানি…’ গানের সাথে পারফর্ম করতে পারত? পারত না।
হিন্দি গান, রেম্প, মিনি স্কারট ইত্যাদি ইত্যাদি হচ্ছে IUBAT কালচার। Knowledge, Belief, Art, Morals, Law গুলো সব গোল্লাই যাক।
কই কোন স্যার কে তো কোনদিন দেখিনি এসব বিতর্কিত বিষয় নিয়ে পোষ্ট দিতে।

১৩০৩ সালে হজরত শাহ্‌ জালালের আগমন, আর ইংরেজদের আগমন ১৭৫৭ সালে। আপনার কথা মতে পাঞ্জাবী-বোরকা যদি শুধুই কালচারাল পোশাক হয় তাহলে শাহ্‌ জালালের নিয়ে আসা পোশাক আমাদের জন্য কালচারাল না হয়ে ইংরেজদের পোশাক কি করে কালচারাল হয়? ১৩০৩ সাল থেকে পড়ে আসা পোশাক ফরমাল না হয়ে ১৭৫৭-র পোশাক কি করে ফরমাল হয়? পাঞ্জাবী-বোরকা ভিনদেশীদের পোশাক হলে মিনি স্কারট কি করে দেশি পোশাক হয়?

এবার একটু বৃত্তের বাইরে আসি।
মুসলিমরা আজ এইডেন্টিটি ক্রাইছে-এ ভোগার সব চেয়ে বড় কারন গুলির একটি হল ইসলাম কে শুধু মাত্র একটি ধর্ম মনে করা, অপরটি হল ভিন দেশি, ভিন জাতিদের অনুকরন করা।
ইসলাম শুধু মাত্র একটি ধর্ম নয়। ইসলাম একটি রাজনীতি, একটি কালচার, একটি সংবিধান, সর্বপুরি একটি জীবন ব্যবস্থা।

আজ IUBAT এর মাঠে যে বাংলাদেশি পতাকা পতপত করে উড়ছে ওটাও কিন্তু এই ইসলামেরই অবদান। আর এটা বুঝার জন্যই বৃত্তের বাইরে আসতে হবে। IUBAT তে যদি ৯৫% মুসলিম ছাত্র না পড়ে হিন্দু ছাত্র পড়ত তাহলে আজ ওখানে ভারতীয় পতাকা উড়ত। কারন ১৯৪৭ সালে দেশটা ভাগ হয়েছিল কিন্তু এই ধর্মের ভিত্তিতেই।
আর এটাই হচ্ছে ইসলামের অন্যতম রাজনৈতিক রূপ। আর পাঞ্জাবী হচ্ছে ইসলামী কালচার, ভিনদেশি কোন কালচার নয়। যেমনটি ধূতি হচ্ছে হিন্দু কালচার, ভারতীয় কালচার নয়।
মসজিদের উপর গোল করে যে গম্বুজ দেওয়া হয়, ওটাও কিন্তু ধর্মীয় কোন আদেশে নয়, ওটা স্রেফ একটি কালচার, ইসলামী কালচার। এখন যেহেতু গম্বুজ-মিনার দেওয়া না দেওয়াতে ধর্মের কিছু আসে যায় না সেহেতু আপনি এসবের পরিবর্তে গির্জার মত করে কোন একটি Transept বসিয়ে দিলেন। এবার ভেবে দেখন ব্যাপারটা কেমন লাগছে।

আর বাংলাদেশের প্রতিটি পাঞ্জাবী-বোরকা পরিহিতা মুসলিম দের জিজ্ঞাস করে দেখুন, এমন কাউকেই পাবেন না যে বলবে উনি আরবদের কালচারাল ফলো করার জন্য এ পোশাক পরেছেন। যে ধর্ম সামগ্র ভারত জুড়ে শতশত বছর ধরে সংস্কৃতি শিক্ষা দিয়ে গেলো তার সংস্কৃতি আমাদের ভালো লাগেনা, কিন্তু তাদের হটিয়ে যে ইংরেজ ২০০ বছর ধরে শুধু নিপীড়ন, লুটপাট আর ধ্বংসের খেলা খেলে গেলো তাদের সংস্কৃতি আজ আমার বড় আপন হয়ে গেলো।

অনেক কথায় মনে আসে কিন্তু সব লিখে প্রকাশ করতে গেলে সময় কুলাবেনা। তবে ভার্সিটির পর্যায়ের একটা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঞ্জাবী-বোরকা নিয়ে আন্দোলন হওয়াটা অনেক দুঃখ জনক। খাজনার চেয়ে বাজনা যখন একটু বেশি হয় তখনই ব্যালেন্সের ঘারতি হয়। আর পাঞ্জাবী-বোরকা পরিহিতারাও এখনকার এমন কঠোর আন্দোলনে নামত না যদি ভার্সিটি অসাড় এক ড্রেস কোডের ফাঁদে তাদের উস্কে না দিত। এখানে ড্রেস কোড সবার জন্য নির্দিষ্ট না, উল্টাপাল্টা অনেক পোশাক পড়ে অনেকেই আসে তখন তাদের গেইটে ফিল্টার করা হয়না বরং স্বাগতম জানানো হয়, সমস্যাটা তখনই হয় যখন কেউ পাঞ্জাবী পড়ে আসে।

মনে রাখতে হবে- ক্ষুধার্তের ক্ষুধা তখনই দ্বিগুন বেড়ে যায় যখন পাশে বসে থাকা অপর ক্ষুধার্তকে কেউ মোরগ-পোলাও দিয়ে যায়।

Status

হারানো সেই দিন গুলি

হারানো সেই দিন গুলি আর নাহি ফিরে পাবো,
হাজার যুগের পথটি ধরে তবোও খুঁজে যাবো।

সেদিন রাতের বাদলা সাঁজে ভেজা চাঁদের আভায়,
স্নিগ্ধ চোখের উষ্ণ নেশায় দেখেছিলাম তোমায়।

কিংবা, আগুন ঝরা গ্রীষ্ম ভরা আম কাঁঠালের ঘ্রাণে,
তোমার অট্টহাসির শব্দমালা জমাট বাঁধে এই প্রানে…।

# রাত ১০ঃ৩০, ১১রা মে ২০১৫