অসংজ্ঞায়িত

মসজিদ সম্মুখের টিবওয়েলটিতে ওজু করিতেছিলাম আর ভাবিতেছিলাম — কি করিয়া আজ অবধি এই ছোট্ট গ্রামের মাটি ও জলের গন্ধ অপরিবর্তিত রহিয়াছে? কত ঝড়-বাদল, কত শত নতুন ঘর আর নতুন মানুষদের আগমন গ্রামটির অবকাঠামো পরিবর্তন করিতেছে প্রতিনিয়ত, অথচ গ্রামটির আকাশ পানে তাকালে তাহার নিলাভ আলোর উদ্যানে ঘুরে বেড়ানো সাদা শুভ্র মেঘ মালাকে কেন জানি সেই দিনটির মতনই পরিচিত মনে হয় — ছোট কালে যেদিন স্কুল পালাইয়া নাভিশ্বাস এক দৌরে গ্রামের মাঠটির মাঝখানে ঐ জামগাছটির নীচে দাঁড়াইয়াছিলাম আর আকাশ পানে চাহিয়া লেখা-পড়াকে চিরতরে ছুটি জানাইয়া দূরের শুভ্র সাদা মেঘ মালার আড়ালে লুকাইতে চাহিয়াছিলাম।

কল্পনার জগত হইতে ফিরিয়া আসিলাম এক মেয়েলোকের সজোর ডাকে। আমাকে নহে; বোরকা পরিহিত মেয়েলোকটি তখন কোন এক রিক্সাওলাকে ডাকিতেছিলেন। আমাকে দেখিয়া তিনি ইতস্ত বোধ করিলেন, দ্বিধাগ্রস্ত নয়নে তাহার মুখের পানে চাহিয়া ঠাহর করিতে চাহিলাম বটে কিন্তু চিনতে ব্যর্থ হইলাম। তবে ইহা আন্দাজ করিতে পারলাম- পাশে দাঁড়িয়ে থাকা তিন-চার বছরের বালকটি তাহারই ছেলে।

– কেমন আছো?

হঠাৎ তিনি এমন প্রশ্ন করিয়া বসিলেন দেখিয়া আরও অবাক হইলাম, সহজ ভাবেই বললাম- ভালো আছি, আপনি?

– আমিও ভালো আছি, এখন কোথায় থাকা হয়?

এমন আরও অনেক প্রশ্ন করিতে থাকিলেন আর আমি উত্তর দিতে লাগিলাম। রিক্সাওয়ালা অপেক্ষা করিতেছিলেন, আসর নামাজের জামাত ততোক্ষণে আরম্ভ হইয়া গিয়াছে কিন্তু তাহার কথা গুলো আমাকে ক্ষণে ক্ষণে বিমোহিত করিতে লাগিল, আস্তে আস্তে তাহার কন্ঠ ও চেহারা পরিচিত হইতে লাগিল। আপনার চেয়েও আপন যাহাকে ভাবিতাম তাহাকে আজ চিনিতে পারিলামনা ভাবিয়া নিজেকে মনে মনে ধিক্কার দিতে লাগিলাম- স্মৃতির আলমারিতে যাহাকে সারাটা জীবন সযত্নে লালন করিয়াছি আজ তাহার সম্মুখীন হইয়া তাহাকেই খুজে ফিরি?

তাহার সাথে আপনাদের পরিচয় করিয়া দেয়ার সময়, সাহস কিংবা ইচ্ছা কোনটিই আমার নেই। তবে যতটুকু বলিতে আমার দ্বিধা নেই তাহা হইল- তিনি আমার বয়সের তুলনায় ৩ বছরের বড়, তাহার সহিত আমার প্রথম পরিচয় প্রাইমারী স্কুলে যখন আমার কোন বন্ধু ছিলনা- তিনি ব্যতীত। আর শেষ দেখা কোন এক বিজয় দিবসে অনুষ্ঠানের রাতে, যেদিন তাহার কিছু কথা বুঝিতে পারিনাই বলিয়া বড্ড অভিমানের সুরে বকিয়াছিল — ‘বোকা ছেলে’।

তাহার সহিত আমার কি সম্পর্ক ছিল ইহা আপনাদের কেমন করিয়া বর্ণনা করিব তাহা ভাবিতেছি, আমি নিজেই ইহার কোন এক কোল কিনারা আজ অবধি খুঁজিয়া ফিরিতেছি।
তিনি ছিলেন আমার বড় বোন, আমার খেলার সাথী, আমার প্রথম বন্ধু আর হয়তবা আমার প্রথম ভালোবাসা। আপনারা না হয় ধরিয়াই নেন- তিনি ছিলেন আমার অন্নদা দিদি।

আমি যখন ক্লাস থ্রি হইতে ক্লাস ফোরে উঠিয়া নিজেকে মস্ত বড় পণ্ডিত ভাবিতে লাগিলাম ততদিনে আমার অন্নদা দিদি প্রাইমারী স্কুলের গণ্ডী পার হইয়া হাই-স্কুলের পথ ধরিয়াছে। কিন্তু তাহার সহিত আমার যোগাযোগ অল্পাকারে হলেও রহিয়াছিল ঠিক সেইদিন পর্যন্ত যেদিন আমি আমার স্কুল ও আমার পরিবারের সবাইকে ত্যাগ করিয়া বহু দূরের এক বিদ্যালয়ে ভর্তি হইয়াছিলাম।

যাইহোক, এতদিন পর তাহাকে দেখিলাম, মন ভরিয়া দেখিলাম আর কর্ণ কহোরে তৃপ্তি ভরে তাহাকে শ্রবণ করিলাম। সবশেষে মৃদু হেসে বলিল- ‘তুমি সেই আগের মতই রয়ে গেলে, শুধু শুনেই যাও কিছু বলতে পারনা’।
হয়তবা তাহার কথা নির্ভুল, কিন্তু তাহার মুচকি হাসির মাঝে পরিষ্কার বেদনার ছাপ দেখিতে পাইলাম যাহা আমার অতীতের সল্পভাষীতাকে বরংবার তিরস্কার করিতে লাগিল।

এদিকে মসজিদের জামাত শেষ হইয়া আসিল আর মুসল্লিরা একে একে বাহির হইতে লাগিল, আমার অন্নদা দিদিও আমার জীবন হইতে আরও একবার বিদায় নিয়া রিক্সায় উঠিয়া রওনা করিল, হয়ত শেষ বারের মত। আমি তাহার যাওয়ার পথে তাকাইয়া রহিলাম, জানতাম সোজা পথের প্রথম বাঁকটি অতিক্রম করবার আগে আমাকে একটিবার ফিরিয়া দেখিবেই। রিক্সা এবার বাঁক নিল, আমার অন্নদা দিদিও দূর হইতে ফিরিয়া তাকাইলেন।
সেদিন আরেকবার বুঝিলাম, প্রেমময় ভালোবাসার বাহিরেও অসংজ্ঞায়িত আরও অনেক ভালোবাসা রহিয়াছে যাহার অদৃশ্য বাঁধন একযুগের ব্যবধানও আলাদা করিতে পারেনা, হয়ত কবরের মাটিও তাহা পারিবেনা।

[গুরুচন্ডালি দোষ দুষ্ট এই লেখায় যতি-চিহ্নের খামখেয়ালি ব্যাবহারে বাংলা ব্যাকরণের যে অপূরণীয় ক্ষতি সাধিত হল তার জন্য অর্থোডক্স পাঠক সমাজের কাছে সবিনয়ে ক্ষমা প্রার্থী]

 
# রাত- ২ঃ০৪, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২১

আপনার মন্তব্য

মন্তব্য

Status

আইইউবিএটি (IUBAT) বনাম ধর্মীয় পোশাক

IUBAT-এর সাথে যুক্ত অনেককেই দেখি অনেক রকমের পোষ্ট দিতে, ধর্মের কোন পোশাক নেই… পোশাক পড়ে ধার্মিক হওয়া যায়না… পাঞ্জাবী-বোরকা ভিনদেশী কালচার… পোশাক কালচারের ধর্ম মনের… বোরকা ছাড়া কি পর্দা হয়না… ইত্যাদি ইত্যাদি আরও অনেক কথা।
আরে ভাই, শুধু বোরকা অথবা লম্বা কাপড় কেন, লোহার তৈরি কোন মেটালিক জিনিস দিয়ে যদি কেউ মাথার চুল ঢাকে, সেটাও পর্দা।
যুক্তির খাতিরে যুক্তি দিলেই হয়না। কারন যুক্তি সব সময় অধিকারের কথা বলেনা, অনেক সময় যুক্তি দিয়ে মানুষের অধিকার হরন করা হয়।

আমরা বৃত্তের ভিতরে থেকে শুধু বৃত্তের জ্যা, ব্যাস, ব্যাসার্ধ ইত্যাদি নিয়ে চিন্তা না করে যদি বৃত্তের বাইরে এসে বৃত্ত কিসের উপর অবস্থিত এবং বৃত্তটার প্রয়োজনীয়তা কি এসব নিয়েও চিন্তা করি তাহলেই কেবল বৃত্তের সমস্যা সঠিক ভাবে সমাধান করতে পারব। IUBAT কর্তৃপক্ষ পাঞ্জাবী-বোরকাকে ভিনদেশী কালচার বলে আসল সমস্যার কথা বারবার এড়িয়ে যায় তাই এই কথা বললাম, কারন কালচার হচ্ছে বৃত্তের ভিরতের অংশ।
ইডওয়ার্ড বার্নেট টেলর এর মতে কালচার হচ্ছে “That complex whole which includes knowledge, belief, art, morals, law, custom and any other capabilities and habits acquired by man as a member of society.”
এখন Knowledge, Belief, Art, Morals, Law ইত্যাদি যদি একটা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উপেক্ষীত হয় তাহলে সে প্রতিষ্ঠানকে Ignorant তৈরির কারখানা বলা যেতে পারে।
অনেকেই বলবে – IUBAT তে কালচার কে উপেক্ষা করা হয়না।
হুম, সেটা ঠিক। উপেক্ষা করলে কি আর রাতে জমে উঠা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের রঙ্গিন আলোর ছন্দে কোমর দুলিয়ে কোন যুবতী ‘শিলা কি যাওয়ানি…’ গানের সাথে পারফর্ম করতে পারত? পারত না।
হিন্দি গান, রেম্প, মিনি স্কারট ইত্যাদি ইত্যাদি হচ্ছে IUBAT কালচার। Knowledge, Belief, Art, Morals, Law গুলো সব গোল্লাই যাক।
কই কোন স্যার কে তো কোনদিন দেখিনি এসব বিতর্কিত বিষয় নিয়ে পোষ্ট দিতে।

১৩০৩ সালে হজরত শাহ্‌ জালালের আগমন, আর ইংরেজদের আগমন ১৭৫৭ সালে। আপনার কথা মতে পাঞ্জাবী-বোরকা যদি শুধুই কালচারাল পোশাক হয় তাহলে শাহ্‌ জালালের নিয়ে আসা পোশাক আমাদের জন্য কালচারাল না হয়ে ইংরেজদের পোশাক কি করে কালচারাল হয়? ১৩০৩ সাল থেকে পড়ে আসা পোশাক ফরমাল না হয়ে ১৭৫৭-র পোশাক কি করে ফরমাল হয়? পাঞ্জাবী-বোরকা ভিনদেশীদের পোশাক হলে মিনি স্কারট কি করে দেশি পোশাক হয়?

এবার একটু বৃত্তের বাইরে আসি।
মুসলিমরা আজ এইডেন্টিটি ক্রাইছে-এ ভোগার সব চেয়ে বড় কারন গুলির একটি হল ইসলাম কে শুধু মাত্র একটি ধর্ম মনে করা, অপরটি হল ভিন দেশি, ভিন জাতিদের অনুকরন করা।
ইসলাম শুধু মাত্র একটি ধর্ম নয়। ইসলাম একটি রাজনীতি, একটি কালচার, একটি সংবিধান, সর্বপুরি একটি জীবন ব্যবস্থা।

আজ IUBAT এর মাঠে যে বাংলাদেশি পতাকা পতপত করে উড়ছে ওটাও কিন্তু এই ইসলামেরই অবদান। আর এটা বুঝার জন্যই বৃত্তের বাইরে আসতে হবে। IUBAT তে যদি ৯৫% মুসলিম ছাত্র না পড়ে হিন্দু ছাত্র পড়ত তাহলে আজ ওখানে ভারতীয় পতাকা উড়ত। কারন ১৯৪৭ সালে দেশটা ভাগ হয়েছিল কিন্তু এই ধর্মের ভিত্তিতেই।
আর এটাই হচ্ছে ইসলামের অন্যতম রাজনৈতিক রূপ। আর পাঞ্জাবী হচ্ছে ইসলামী কালচার, ভিনদেশি কোন কালচার নয়। যেমনটি ধূতি হচ্ছে হিন্দু কালচার, ভারতীয় কালচার নয়।
মসজিদের উপর গোল করে যে গম্বুজ দেওয়া হয়, ওটাও কিন্তু ধর্মীয় কোন আদেশে নয়, ওটা স্রেফ একটি কালচার, ইসলামী কালচার। এখন যেহেতু গম্বুজ-মিনার দেওয়া না দেওয়াতে ধর্মের কিছু আসে যায় না সেহেতু আপনি এসবের পরিবর্তে গির্জার মত করে কোন একটি Transept বসিয়ে দিলেন। এবার ভেবে দেখন ব্যাপারটা কেমন লাগছে।

আর বাংলাদেশের প্রতিটি পাঞ্জাবী-বোরকা পরিহিতা মুসলিম দের জিজ্ঞাস করে দেখুন, এমন কাউকেই পাবেন না যে বলবে উনি আরবদের কালচারাল ফলো করার জন্য এ পোশাক পরেছেন। যে ধর্ম সামগ্র ভারত জুড়ে শতশত বছর ধরে সংস্কৃতি শিক্ষা দিয়ে গেলো তার সংস্কৃতি আমাদের ভালো লাগেনা, কিন্তু তাদের হটিয়ে যে ইংরেজ ২০০ বছর ধরে শুধু নিপীড়ন, লুটপাট আর ধ্বংসের খেলা খেলে গেলো তাদের সংস্কৃতি আজ আমার বড় আপন হয়ে গেলো।

অনেক কথায় মনে আসে কিন্তু সব লিখে প্রকাশ করতে গেলে সময় কুলাবেনা। তবে ভার্সিটির পর্যায়ের একটা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঞ্জাবী-বোরকা নিয়ে আন্দোলন হওয়াটা অনেক দুঃখ জনক। খাজনার চেয়ে বাজনা যখন একটু বেশি হয় তখনই ব্যালেন্সের ঘারতি হয়। আর পাঞ্জাবী-বোরকা পরিহিতারাও এখনকার এমন কঠোর আন্দোলনে নামত না যদি ভার্সিটি অসাড় এক ড্রেস কোডের ফাঁদে তাদের উস্কে না দিত। এখানে ড্রেস কোড সবার জন্য নির্দিষ্ট না, উল্টাপাল্টা অনেক পোশাক পড়ে অনেকেই আসে তখন তাদের গেইটে ফিল্টার করা হয়না বরং স্বাগতম জানানো হয়, সমস্যাটা তখনই হয় যখন কেউ পাঞ্জাবী পড়ে আসে।

মনে রাখতে হবে- ক্ষুধার্তের ক্ষুধা তখনই দ্বিগুন বেড়ে যায় যখন পাশে বসে থাকা অপর ক্ষুধার্তকে কেউ মোরগ-পোলাও দিয়ে যায়।

আপনার মন্তব্য

মন্তব্য

তাহমিনা

সহসা মেয়েটিকে জিজ্ঞেস করিলাম- রাজশাহী যাবেন নিশ্চয়? কি নাম আপনার?

উম ম….. আমি তাহমিনা। (প্রশ্নটি অভাবনীয় ছিল তাই ক্ষণকাল ইতস্ত বোধ করিয়া মেয়েটির সরল উত্তর) এর পর মিনিট কয়েক (হয়ত ঘণ্টা খানিক) নিরব ছিলাম নিজে কোন প্রশ্নের জবাব দেব বলিয়া, কিন্তু সে তাহার বিনম্র নেত্রে আমাকে বার কয়েক অবলোকন করা ব্যতিত কোন প্রশ্ন করিলনা।

কোন এক কন-কনে শীতের রাতে সদ্য অর্জিত যৌবন প্রাপ্ত এক পরমা সুন্দরীর নাম জানাটা কেন এত জরুরী হইয়া পরেছিল, আর কেমন করিয়াই বা আমার অমন সাহস হইয়াছিল তাকে জিজ্ঞেস করিবার। — তা আমি আজও বুঝিয়া উঠিতে পারিনা!

প্রাচ্যের অক্সফোর্ড ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যে আমার ভর্তিটা টিকবেনা তাহা আমি ভর্তি পরীক্ষা দেওয়ার পূর্বেই টের পাইয়াছিলাম। তাই ঢাকা ভার্সিটির ভর্তি ফরমের সাথে রাজশাহী ভার্সিটির ভর্তি ফরমটাও গ্রীনরোড- ফার্মগেটের কোন এক গলির দোকান হইতে সংগ্রহ করিয়াছিলাম। ভর্তি ফরমগুলি ভার্সিটিতে পৌঁছানো ও প্রবেশ পত্র সমূহ ফেরত আনা সম্পর্কিত যাবতীয় দাঁয় দায়িত্ত এই সার্ভিসিং সেন্টারই করিয়া থাকে তাই তাদের চার্জটাও একটু বেশি।  ইহা বলা বাহুল্য যে, আজকাল গ্রীনরোডের অলিতে গলিতে এমন হাজারো দোকানের সন্ধান রহিয়াছে। আর ইহাদের খবর জানেনা এমন ভর্তি পরীক্ষার্থীর সংখ্যা নাই বলিয়াই চলে।
আরেকটি কথা বলিয়া রাখি, আমার বন্ধু সমাজের সবাই যেখানে ভর্তি ফরম গুলি ফুরাইয়া যাইবে এই ভয়ে বাংলার তাবৎ ভার্সিটির ভর্তি তুলিবার তরে একপ্রকার কাড়া-কাড়ি লাগিয়া গেল সেখানে আমি কেবল এই দুটি ভার্সিটির ভর্তি ফরম তুলিয়া হাফাইয়া উঠিয়াছিলাম। আমার হাফাইয়া উঠিবার একমাত্র কারন ইহা নহে যে আমি অতিব অলস বরং মূল কারন হচ্ছে যে, আমার ধারনা যারা দেশের ছোট-বড়, অদূর-সুদূর, ভাল-মন্দ সব ভার্সিটির নানান রকম বিভাগের ভর্তি ফরম একসাথে তুলিয়া থাকে তাহাদের মেধা ক্ষমতা আর যাই হোকনা কেন আত্নবিশ্বাস নামক পরম বন্ধুটি যে তাহাদের নেই ইহা হলক করিয়াই বলা যায়। আর নিজস্ব পছন্দের সাবজেক্ট বলতে তাহদের তেমন কোন মাথা ব্যথাই থাকেনা, যে সাবজেক্টেই সুযোগ মিলিবে উহাতেই পড়িতে যাইবে বলিয়াই আশা পোষণ করিয়া থাকে, ভাবটা এমন যে “যেখানেই রাত সেখানেই কাত”।

যাই হোক, অত বক বক করে কাজ নেই, কাজের কথা হইল; সেদিনের ঐ কোন কনে শীতের রাতটিই ছিল রাজশাহীতে ভর্তি পরীক্ষা দিতে যাওয়ার যাত্রা বেলা।

আমি একা নহে, সাথে রহিয়াছে আরও একজন। তাহার নাম বাবু। রাজশাহীর নাটোরেই তাহার বাড়ি। সে আমার পরম কোন বন্ধু মানুষ না হইলেও একবারে দূরের কেহ নয় বরং খুবই কাছের একজন, যাহার কাছে নির্দ্বিধায় নর-নারীর প্রেম-প্রনয় ঘটিত সুড়সুড়ি দায়ক ব্যাপারাদি নিয়া আলাপ চারিতা করা যায়। ভ্রমনের প্রথম দিন তাহাদের বাড়িতেই থাকিব বলিয়া আগেভাগেই ঠিক করিয়া রাখিয়াছিলাম। স্টেশনের চারিদিকে নজর করিয়া দেখিলাম এখানে আমরা দুজনেই কেবল পরীক্ষার্থী নহে সাথে আরও শ’খানেক পরীক্ষার্থী রহিয়াছে। এবং বুঝিলাম কতিপয় বান্ধবীর সহিত তাহমিনা নামক মেয়েটিও একই পথের যাত্রী।

_________________________________ (চলবে…  ১/৪)

আপনার মন্তব্য

মন্তব্য

তুমিও একদিন…

একদিন যবে এই শ্বাস শেষ হয়ে যাবে,
ভেবো না চাওয়াগুলি সব চুকে যাবে।
তফাৎ তখন শুধু এটুকুই হবে-
আজ সময় আমার কাটে যখন তোমার স্মরণে,
কাল আমার স্মৃতিগুলি ভিজবে তুমার নেত্রকোণে।

# ২২শে মে ২০১৫, রাত ২ঃ২০

আপনার মন্তব্য

মন্তব্য

সবুজ ঢাকা গ্রাম

সুখের একটি নীর ছিল সবুজ ঢাকা গ্রামে,
তার শ্যামলের মায়ায় আমি পড়েছিলাম প্রেমে।

প্রথম প্রেম গ্রামটি আমার, জন্ম যাহার কোলে,
রঙ্গিন এই শহরে থাকি তবু, যায়নি তারে ভুলে…!

# ০৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪১৯, রাত ৮:১২

আপনার মন্তব্য

মন্তব্য